• বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ
বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ এবং মুনাফার আগ্রাসনে করোনা টিকা
বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ এবং মুনাফার আগ্রাসনে করোনা টিকা

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনায় বিশ্বে এ পর্যন্ত ২১ লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছেন। এ পরিস্থিতিতে করোনা অতিমারীকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে মোকাবেলার যৌথ প্রয়াস নেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি ধনীদেশগুলো বিচ্ছিন্নভাবে, বেশ গোপনীয়তার সঙ্গে টিকা আবিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা এটা করেছে মানবকল্যাণের বিপরীতে ঔষধ, ভ্যাকসিন বাণিজ্য ও মুনাফার জন্য। কে কার আগে এই দুষ্প্রাপ্য নতুন পণ্যের বিশাল বিশ্ববাজারটি দখল করবে তার প্রতিযোগিতা তারা চালিয়েছে। আর এ কারণেই তারা বিজ্ঞানীদের এবং সমগ্র বিশ্বের জ্ঞান, প্রজ্ঞাকে, অর্থ ও সামর্থকে মানবজাতির কল্যাণে সমাবেশিত করেনি। নিজেদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বীতা চালিয়েছে টিকা আবিষ্কারেও।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২২ ডিসেম্বর ’২০ পর্যন্ত তথ্য, বিশ্বজুড়ে করোনার ২৩৩টি টিকা উদ্ভাবনের কাজ চলছে। এসব টিকার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্নার দুটি টিকা, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের উদ্ভাবিত এবং ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা, রাশিয়ার গামালোয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের টিকা, চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা নিজ নিজ দেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে।   

ধনী দেশগুলো টিকা কিনে মজুদ করে গরীব দেশগুলোকে হুমকিতে ফেলেছে। পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স নামের একটি জোট সম্প্রতি জানিয়েছে, ধনী দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৪%। কিন্তু তারা মোট চাহিদার ৫৩% টিকা কিনে রেখেছে। এতে স্বল্প আয়ের প্রায় ৭০টি দেশ তাদের জনগোষ্ঠীর প্রতি ১০ জনে ১ জনকে টিকা দিতে পারবে। এই জোট বলছে আমেরিকার মডার্নার উদ্ভাবিত টিকাটির শতভাগ ডোজ কিনে নিয়েছে ধনীদেশগুলো। এই সকল দেশ ফাইজারের টিকারও ৯০শতাংশ কিনে ফেলেছে। ফলে উল্লেখিত ৭০টি দেশ এবং ঐ সব দেশের দরিদ্র জনগণ কবে নাগাদ টিকা পাবে তা এখনও অনিশ্চিত।  বাংলাদেশে চীনা টিকা ট্রায়াল দেয়ার কথা ছিল গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা হঠাৎ তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশ সফর করে ভারত থেকে টিকা কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ফলে চাপে পড়ে হাসিনা সরকার বিভিন্ন অজুহাতে চীনা টিকার ট্রায়াল বন্ধ রাখে। এর পর পরই ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় দেশের বেক্সিমকো ফার্মা এবং ভারতের সেরাম ইনষ্টিটিউট এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করে তিন কোটি করোনা টিকা কিনার জন্য।   

ভারত এখন তার পাশ্ববর্তী দেশগুলোকে চীনের প্রভাব মুক্ত রাখার জন্য অন্য দেশের সঙ্গে ২০ লক্ষ ডোজ টিকা বাংলাদেশকেও উপহার হিসেবে দিয়েছে। শুনা যাচ্ছে চীনও বাংলাদেশকে টিকা উপহার পাঠাবে। সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের আধিপত্য বজায় রাখার এই এক অপকৌশল। কিন্তু এটা হলো ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করা। যে তিন কোটি টিকার ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ভারত থেকে হয়েছে তা দিয়ে মাত্র দেড় কোটি মানুষের কাজ হবে। সেটা করতে লাগবে ছয় মাস। তারপর করোনা ভাইরাসটি নতুন রূপে আসে কিনা এবং এই টিকায় তার চিকিৎসা হবে কিনা সেটাও এক বড় প্রশ্ন।  

ভারত যেখানে করোনার টিকা পাবে দুই ডলারে, সেখানে বাংলাদেশ পাবে সোয়া পাঁচ ডলারে। এই বাড়তি অর্থ ভারতের কোম্পানি বা বাংলাদেশের বেক্সিমকো কোম্পানির পকেটে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। জনগণের পকেট কেটে বাণিজ্য/মুনাফাই পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদীদের আসল কাজ। ভারত থেকে টিকা কেনা হচ্ছে নগদ অর্থে, যা সরকার পরিশোধ করেছে, কিন্তু ব্যবসা করবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কুখ্যাত সালমান রহমান গং।  বাংলাদেশে করোনা টিকার বন্টনের যে তালিকা দেখা যাচ্ছে তাতে শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি জনগণের পাওয়াটা সুদূর পরাহত তা বোঝাই যাচ্ছে। করোনাকালীন চিকিৎসায় যা দেখা গিয়েছে। তদুপরি টিকা নেয়ার জন্য আইডি মাধ্যমে নিবন্ধনের জটিল প্রক্রিয়া ব্যাপক শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ জনগণ গ্রহণ করবে না বলেই ধারণা করা যায়। এখনো পরিষ্কার নয় যে, টিকাটি বিনামূল্যে জনগণ পাবেন কিনা। যদি দুই ডোজ টিকা প্রায় তিন হাজার টাকায় কিনতে হয় তাহলে সাধারণ জনগণ সেটা কিনবেন কেন? তারা তো ভালই আছেন- সরকারই বলছে।   

মহামারীকালেও করোনা টিকা সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদীদের বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ এবং মুনাফার আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি। হাসিনা সরকারও ভারতের স্বার্থে এখনো পর্যন্ত অন্যকোনো দেশ থেকে করোনা টিকা আনার কোন ব্যবস্থা করেছে এমনটা দেখা যাচ্ছে না। যদিও তারা বাগাড়ম্বর করেই চলেছে। সমাজব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তর ব্যতীত স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তন হবেনা বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান প্রয়োজন করোনা-আক্রমণ থেকে নিম্নতম সুরক্ষার জন্য। সে লক্ষেই জনগণকে সংগ্রাম করতে হবে।  

বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ এবং মুনাফার আগ্রাসনে করোনা টিকা

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১  |  অনলাইন সংস্করণ

করোনায় বিশ্বে এ পর্যন্ত ২১ লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছেন। এ পরিস্থিতিতে করোনা অতিমারীকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে মোকাবেলার যৌথ প্রয়াস নেয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি ধনীদেশগুলো বিচ্ছিন্নভাবে, বেশ গোপনীয়তার সঙ্গে টিকা আবিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা এটা করেছে মানবকল্যাণের বিপরীতে ঔষধ, ভ্যাকসিন বাণিজ্য ও মুনাফার জন্য। কে কার আগে এই দুষ্প্রাপ্য নতুন পণ্যের বিশাল বিশ্ববাজারটি দখল করবে তার প্রতিযোগিতা তারা চালিয়েছে। আর এ কারণেই তারা বিজ্ঞানীদের এবং সমগ্র বিশ্বের জ্ঞান, প্রজ্ঞাকে, অর্থ ও সামর্থকে মানবজাতির কল্যাণে সমাবেশিত করেনি। নিজেদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বীতা চালিয়েছে টিকা আবিষ্কারেও।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২২ ডিসেম্বর ’২০ পর্যন্ত তথ্য, বিশ্বজুড়ে করোনার ২৩৩টি টিকা উদ্ভাবনের কাজ চলছে। এসব টিকার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্নার দুটি টিকা, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের উদ্ভাবিত এবং ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা, রাশিয়ার গামালোয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের টিকা, চীনের সিনোভ্যাক ও সিনোফার্মের টিকা নিজ নিজ দেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেয়েছে।   

ধনী দেশগুলো টিকা কিনে মজুদ করে গরীব দেশগুলোকে হুমকিতে ফেলেছে। পিপলস ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স নামের একটি জোট সম্প্রতি জানিয়েছে, ধনী দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৪%। কিন্তু তারা মোট চাহিদার ৫৩% টিকা কিনে রেখেছে। এতে স্বল্প আয়ের প্রায় ৭০টি দেশ তাদের জনগোষ্ঠীর প্রতি ১০ জনে ১ জনকে টিকা দিতে পারবে। এই জোট বলছে আমেরিকার মডার্নার উদ্ভাবিত টিকাটির শতভাগ ডোজ কিনে নিয়েছে ধনীদেশগুলো। এই সকল দেশ ফাইজারের টিকারও ৯০শতাংশ কিনে ফেলেছে। ফলে উল্লেখিত ৭০টি দেশ এবং ঐ সব দেশের দরিদ্র জনগণ কবে নাগাদ টিকা পাবে তা এখনও অনিশ্চিত।  বাংলাদেশে চীনা টিকা ট্রায়াল দেয়ার কথা ছিল গত আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা হঠাৎ তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশ সফর করে ভারত থেকে টিকা কেনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। ফলে চাপে পড়ে হাসিনা সরকার বিভিন্ন অজুহাতে চীনা টিকার ট্রায়াল বন্ধ রাখে। এর পর পরই ৫ অক্টোবর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় দেশের বেক্সিমকো ফার্মা এবং ভারতের সেরাম ইনষ্টিটিউট এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করে তিন কোটি করোনা টিকা কিনার জন্য।   

ভারত এখন তার পাশ্ববর্তী দেশগুলোকে চীনের প্রভাব মুক্ত রাখার জন্য অন্য দেশের সঙ্গে ২০ লক্ষ ডোজ টিকা বাংলাদেশকেও উপহার হিসেবে দিয়েছে। শুনা যাচ্ছে চীনও বাংলাদেশকে টিকা উপহার পাঠাবে। সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের আধিপত্য বজায় রাখার এই এক অপকৌশল। কিন্তু এটা হলো ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করা। যে তিন কোটি টিকার ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ভারত থেকে হয়েছে তা দিয়ে মাত্র দেড় কোটি মানুষের কাজ হবে। সেটা করতে লাগবে ছয় মাস। তারপর করোনা ভাইরাসটি নতুন রূপে আসে কিনা এবং এই টিকায় তার চিকিৎসা হবে কিনা সেটাও এক বড় প্রশ্ন।  

ভারত যেখানে করোনার টিকা পাবে দুই ডলারে, সেখানে বাংলাদেশ পাবে সোয়া পাঁচ ডলারে। এই বাড়তি অর্থ ভারতের কোম্পানি বা বাংলাদেশের বেক্সিমকো কোম্পানির পকেটে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। জনগণের পকেট কেটে বাণিজ্য/মুনাফাই পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদীদের আসল কাজ। ভারত থেকে টিকা কেনা হচ্ছে নগদ অর্থে, যা সরকার পরিশোধ করেছে, কিন্তু ব্যবসা করবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা কুখ্যাত সালমান রহমান গং।  বাংলাদেশে করোনা টিকার বন্টনের যে তালিকা দেখা যাচ্ছে তাতে শ্রমিক-কৃষক ও মেহনতি জনগণের পাওয়াটা সুদূর পরাহত তা বোঝাই যাচ্ছে। করোনাকালীন চিকিৎসায় যা দেখা গিয়েছে। তদুপরি টিকা নেয়ার জন্য আইডি মাধ্যমে নিবন্ধনের জটিল প্রক্রিয়া ব্যাপক শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ জনগণ গ্রহণ করবে না বলেই ধারণা করা যায়। এখনো পরিষ্কার নয় যে, টিকাটি বিনামূল্যে জনগণ পাবেন কিনা। যদি দুই ডোজ টিকা প্রায় তিন হাজার টাকায় কিনতে হয় তাহলে সাধারণ জনগণ সেটা কিনবেন কেন? তারা তো ভালই আছেন- সরকারই বলছে।   

মহামারীকালেও করোনা টিকা সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদীদের বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদ এবং মুনাফার আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি। হাসিনা সরকারও ভারতের স্বার্থে এখনো পর্যন্ত অন্যকোনো দেশ থেকে করোনা টিকা আনার কোন ব্যবস্থা করেছে এমনটা দেখা যাচ্ছে না। যদিও তারা বাগাড়ম্বর করেই চলেছে। সমাজব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তর ব্যতীত স্বাস্থ্যসেবার পরিবর্তন হবেনা বর্তমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান প্রয়োজন করোনা-আক্রমণ থেকে নিম্নতম সুরক্ষার জন্য। সে লক্ষেই জনগণকে সংগ্রাম করতে হবে।  

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র